নীলফামারীর শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান নিয়ে শাহরিন ইসলাম তুহিনের একটি ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন—
“নীলফামারীর শিক্ষিত যুবকদের মেধার যোগ্যতা এবং আমার একটি সুপারিশে যদি কর্মসংস্থানের দরজা খুলে যায়, সেটাকেই আমি জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন মনে করব।”
বক্তব্যটির প্রথম অংশে শিক্ষিত যুবকদের মেধা ও যোগ্যতার কথা বলা হলেও, “আমার একটি সুপারিশে” কথাটি চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে ব্যক্তিগত সুপারিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করে।
একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থায় চাকরির সুযোগ ideally নির্ধারিত হওয়ার কথা যোগ্যতা, দক্ষতা ও প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। সেখানে কোনো ব্যক্তির সুপারিশ যদি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে—যোগ্যতার পাশাপাশি ব্যক্তিগত যোগাযোগ বা প্রভাব কি সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছে?
এটি কেন উদ্বেগের বিষয় হতে পারে?
🔹 মেধার মূল্যায়ন:
যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও যদি ব্যক্তিগত সুপারিশকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হয়, তাহলে সংযোগহীন কিন্তু মেধাবী তরুণদের মধ্যে বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হতে পারে।
🔹 স্বচ্ছতার প্রশ্ন:
কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে সুপারিশের ভূমিকা স্পষ্ট না হলে নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
🔹 যুবসমাজের আস্থা:
শিক্ষিত বেকার তরুণদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—তাদের শিক্ষা, দক্ষতা ও পরিশ্রম যেন ন্যায্যভাবে মূল্যায়িত হয়। “সুপারিশ ছাড়া সুযোগ পাওয়া কঠিন”—এমন ধারণা তৈরি হলে মেধাভিত্তিক ব্যবস্থার ওপর আস্থা কমতে পারে।
তবে একই সঙ্গে এটিও গুরুত্বপূর্ণ যে, কোনো একটি বক্তব্যের ভিত্তিতে কাউকে দুর্নীতি বা পক্ষপাতের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করা যায় না। বক্তব্যটির বাস্তব প্রয়োগ ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগপ্রক্রিয়া সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য থাকলেই সে বিষয়ে যথাযথ মূল্যায়ন সম্ভব।
নীলফামারীর শিক্ষিত যুবকদের জন্য প্রয়োজন এমন একটি কর্মসংস্থান ব্যবস্থা, যেখানে সুপারিশ নয়—যোগ্যতা, দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও ন্যায্য প্রতিযোগিতাই সুযোগ পাওয়ার প্রধান ভিত্তি হবে।
প্রশ্নটা তাই সবার জন্য—কর্মসংস্থানের দরজা কি মেধার জন্য খুলবে, নাকি সুপারিশের জন্য?

