নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সমূহের সহকারী শিক্ষকদের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত আবেদন যাচাই-বাছাই এবং নিষ্পত্তিকরণ কমিটিতে রাজনৈতিক দলের প্রভাবশালীদের অন্তর্ভুক্ত করা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি এই প্রশাসনিক কমিটিতে "বিদ্যোৎসাহী ও শিক্ষানুরাগী" কোটায় স্থান পেয়েছেন স্থানীয় বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা-নেত্রী।
সম্প্রতি ডিমলা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমরানুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে দেখা যায়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের আলোকে এই ৫ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিতে স্থান পাওয়া দুই বিএনপি নেতা হলেন—উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী প্রধান এবং উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী সেতারা সুলতানা।
অফিস আদেশ অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোছাঃ আফরোজা বেগম। কিন্তু প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি "বিদ্যোৎসাহী/শিক্ষানুরাগী (সভাপতি মনোনীত)" হিসেবে উক্ত দুই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় শিক্ষক সমাজ ও সাধারণ মানুষের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে।
সম্প্রতি এনটিআরসিএ (NTRCA)-র পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত-প্রক্রিয়া নিয়ে দেশজুড়ে শিক্ষক সংগঠন ও সর্বস্তরের মানুষের তীব্র প্রতিবাদ ও সমালোচনার মুখে পড়তে দেখা গেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। সেই জের কাটতে না কাটতেই প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি ও পদায়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কমিটিতে দলীয় নেতাদের অন্তর্ভুক্তি নতুন বিতর্ক উসকে দিয়েছে।
শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক নেতাদের সরাসরি অংশগ্রহণ কাজের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা বিনষ্ট করবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় বইছে। নেটিজেনরা প্রশ্ন তুলছেন, শিক্ষকের মতো সংবেদনশীল প্রশাসনিক জায়গায় রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে পদায়ন পাওয়া কতটুকু যৌক্তিক ও নৈতিক?
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, শিক্ষক বদলি প্রক্রিয়ায় রাজনীতিকদের উপস্থিতি প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নষ্ট করবে এবং এতে স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হবে। অবিলম্বে বিতর্কিত এই কমিটি পুনর্গঠন করে কেবল নিরপেক্ষ শিক্ষাবিদ ও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

