নীলফামারীর ডিমলায় নতুন করে সার ডিলার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর থেকেই অনিয়ম ও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য ১০ ডিলারের নাম ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডিমলার ১০টি ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের জন্য এবার মোট ১৪৮ জনক আবেদন করেছেন। আবেদন যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়ন থেকে তিনজন করে মোট ৩০ জনের নাম জেলা পর্যায়ে পাঠানোর কথা রয়েছে। সেখান থেকে যাচাই-বাছাই শেষে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে মোট ১০ জন ডিলার চূড়ান্ত করা হবে।
তবে চূড়ান্ত নিয়োগের আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্ভাব্য ১০ ডিলারের একটি তালিকা ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে। কয়েকজন তৃণমূল নেতাকর্মীর অভিযোগ, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীদের ডিলারশিপ পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ ক্ষেত্রে অর্থ লেনদেনেরও অভিযোগ রয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।
স্থানীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সার ডিলার নিয়োগকে ঘিরে অর্থ লেনদেনের নানা কথা শুনেছেন তিনি। তবে অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ তার কাছে নেই। এ নিয়ে স্থানীয় নেতাদের মধ্যে পরস্পরকে দোষারোপের ঘটনাও ঘটছে বলে জানান তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সম্ভাব্য ডিলারদের তালিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নিয়োগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে কীভাবে এসব নাম প্রকাশ্যে এলো, তা নিয়েও আলোচনা করছেন স্থানীয়রা। তবে অর্থ লেনদেন বা অনিয়মের অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনো সত্যতা যাচাই করা যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি
ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরানুজ্জামান বলেন, ‘সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া সরকারি নীতিমালা ও প্রচলিত বিধিবিধান অনুযায়ী সম্পন্ন করা হবে।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মীর হাসান আল বান্না বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। ঘুষ লেনদেনের কোনো প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারশিপ বাতিলের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আবেদন যাচাই-বাছাই থেকে শুরু করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি দাবি করেছেন স্থানীয়রা।

